PART: 1
বিদ্যুৎ নাই তাই লিফট কাজ করছে না। সিড়িও অন্ধকার। দুই এক মিনিটের মাঝেই বিল্ডিং এর জেনারেটর চালু হয়ে যায়। প্রায়ই কবির টিউশনি শেষে বের হবার সময়ই কারেন্টটা যেতে হয়। আজব ব্যাপার! শামীমা ম্যাডাম তিন তলা থেকে মোবাইলের টর্চ লাইট ধরে আছেন। উনি অপেক্ষা করতে বলেছিলেন জেনারেটর আসার আগ পর্যন্ত
কিন্তু কবির "লাগবেনা" বলে দ্রুত নেমে গেল। গত সপ্তাহে
যা হয়েছে কবির চায়না তা আবার হোক। উনার এক ছেলে আর এক মেয়ে। দুইজনকে পড়ায়। ছেলেটা ক্লাস এইটে, ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র। আর মেয়েটা ক্লাস ফাইভে, বাংলা মিডিয়ামে। কবির সপ্তাহে ৩ দিন সন্ধ্যায় পড়াতে আসে। দুইজনকে পড়িয়ে ওই বাসা থেকে বের হতে হতে রাত প্রায় সাড়ে ১০টা বেজে যায়। তার উপর শামীমা ম্যাডাম এর বাহারী ধরনের নাস্তা নিয়ে আসেন একটু পর পর। সেগুলা খেতে আর উনার সাথে টুকটাক কথা বলতে বলতে এত সময় চলে যায় যে বাসায় ফিরে ওর নিজেরই পড়ার সময় থাকেনা।
কারেন্ট না থাকলে রাস্তার সবগুলো ল্যাম্পপোস্টে লাইট জ্বলে না। কিছু জ্বলে কিছু জ্বলে না। যদিও এই আবাসিক এলাকাটা খুব নামকরা। ছিমছাম। গোছানো সুন্দর। আবাসিকের ভেতর ঢুকলে মনেই হয়না এটা ঢাকা। একারনে সবাই একনামে চিনে। এরকম একটা আবাসিকে এই অবস্থা ভাবা যায়! একদিক দিয়ে ভালোই লাগে এই আধো আলো আধো ছায়ায় হেঁটে বাসায় যেতে। আর টাকারও ব্যাপার আছে। ছোট শহর থেকে উঠে আসা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। থাকে মেসে। বন্ধুদের সাথে শেয়ারে। তাই টাকা পয়সা হিসেব করেই চলতে হয়। নামকরা এক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কবির। সাব্জেক্ট ফার্মাসী। টিউশন ফী অনেক বেশি। তার বন্ধুদের কেউ টিউশনি করে না। বড়লোকের ছেলে-মেয়ে ওরা। ওদের টিউশনির দরকার নাই।
রাতের এই সময় রাস্তায় খুব বেশি গাড়ি থাকেনা । কিছুক্ষন
হাঁটতে হাঁটতে মোবাইলটা বের করল কবির। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে নিল। সামনে একটা শর্টকাট রাস্তা আসছে যেটা দিয়ে এফ ব্লক থেকে সি ব্লকে চলে আসা যায়। শুনশান রাস্তা। মোড় ঘুরলেই শর্টকাট রাস্তাটা আসবে। মোড়ের দুই প্লট আগেই এই রাস্তার শেষ বিল্ডিংটা। এরপর দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা খালি দুটো প্লট। এখনও মালিক বিল্ডিং নামের জঞ্জাল দাড়া করায়নি। খালি প্লটে নানা রকম ঘাস জন্মে আছে। অল্প জমা পানিতে মশা, ব্যাঙ্ আর নাম না জানা পোকার বাসস্থান। মানুষ আসার আগ পর্যন্ত এটাই ওদের বাড়ি। শেষ বিল্ডিং এর সামনের ল্যাম্পপোস্টটা কারেন্ট না থাকলে জ্বলে না। কিন্তু মোড়ের কাছে খালি প্লটের সামনের ল্যাম্পপোস্টটা মিটিমিটি জ্বলে কারেন্ট থাকুক বা না থাকুক। যে ল্যাম্প পোষ্টটা জ্বলার দরকার ছিল সেটাই জ্বলে না! আজব ব্যাপার
স্যাপার। শেষ বিল্ডিংটা
পার করছে। সামনে কুকুরের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। বিল্ডিং এর সামনের বাল্বে্র আলোয় যতটুকু আলো হবার ততটুকু আলো হয়ে আছে। আস্তে আস্তে আলো কমে আসছে। মোড়ের ল্যাম্পপোস্টের আলো নামে মাত্র। তারউপর ল্যাম্পপোস্টে গায়ে লতানো গাছ পেঁছিয়ে আলো আরো কমিয়ে দিয়েছে। কবির মোবাইলটা শক্ত করে ধরল। ঢোক গিলে নিল। ডান দিকে মোড় ঘুরলো। দেখলো আর সব দিনের মতই পাঁচ ছয়টা কুকুর ওই ল্যাম্পপোস্টের ঠিক গোড়ায় দাঁড়িয়ে উপরের দিকে মুখ করে প্রানপনে ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ওরা ল্যাম্পপোস্টের উপর কিছু একটা দেখছে! কি জানি অদৃশ্য কিছুর দিকে তাকিয়ে কুকুরগুলো এমন করছে কে জানে। কুকুরগুলোর শারীরিক ভাষা দেখে মনে হচ্ছে ওরা ভয়ে আছে কিন্তু জায়গা ছেড়ে যেতে রাজী না। ছোট শহর থেকে আসার কারনে কবির গ্রামের অন্ধকার রাস্তায় হেঁটেছে। তাই কুকুর আর অন্ধকার
রাস্তায় ভয় নেই। তবুও শহরে এরকম একটা আবাসিকে এমন রাস্তা আসবে কবির কল্পনা করেনি। কেমন জানি অদ্ভুত অনুভূতি হয় এখানটায়
আসলে। যতই নিজেকে মানা করে তবুও কুকুরের চাহনী লক্ষ্য করে উপরে দিকে চোখ চলেই যায় কবিরের। না কিছুই নেই সেখানে। তবুও মগজ নানা রকম ভয়ংকর কিছুর আকার আকৃতি বানাতে চায়। সেকারনে জোর করে মোবাইলে মনোযোগ দিয়ে হেঁটে মোড়টা ঘুরে শর্টকাট রাস্তাটা পার হয়ে যায়। কুকুর মানুষের ভয় অনূভব করতে পারে। ওদের অনুভুতি শক্তি অনেক বেশি। তাই জোরে হাঁটা থেকে নিজেকে দমিয়ে রাখে তবুও হাঁটার দ্রুততা বেড়েই যায়। কুকুরগুলোর কবিরের দিকে মনযোগ দেবার কোন আগ্রহ নেই। ওরা একতালে আগের মতই উপরের দিকে তাকিয়ে ডেকেই যাচ্ছে। এটা যদি প্রথমবার হত তাও কথা ছিল। যখন থেকে এই রাস্তা আবিস্কার করেছে তখন থেকেই দেখে আসছে। প্রথমদিন মেসে ফিরে রাতে কুকুরগুলকে স্বপ্নে দেখেছিল। এরপর আর দেখেনি। তাও ওই রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় একইরকম অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয় কবিরের।
তারপরও কেন জানি ওই রাস্তা দিয়েই মেসে ফিরে।
মেসে ঢুকতেই ভাইবার এপ এর মেসেজ নোটিফিকেশন। মেসে ওয়াই-ফাই আছে। নেট পেয়েই নটিফিকেশন দিল ভাইবার। ইচ্ছে করছেনা দেখতে কারন জানে কে মেসেজ দিয়েছে। শামীমা ম্যাডাম। বাসায় পৌছে গেছে কিনা কবির তাই জিজ্ঞাসা করে মেসেজ। সিন না করেই রেখে দিলো। গত এক সপ্তাহ ধরে কবির তাই করছে। উপেক্ষা। টিউশনী ছেড়ে দেবার চিন্তা করেছে। এই মাসটা যাক। তারপর সে মুক্ত।
এবার সেলুলার কলের আওয়াজ। "উফফ" বলে আবার মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে মোবাইল ডিসপ্লে তে লেখা "ছোট মা"। হ্যাঁ ছোট মা। নিজের আসল মা না। কবিরের বয়স যখন ১৪ বছর তখন ওর মা মারা গিয়েছিলেন আরেকটা বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে। মা আর বাচ্চা কেউ বাঁচেনি। ১৩ বছরে বয়োসন্ধিকালে পড়ে ১৪ বছরের কিশোর মন এত টুকু জানে বাচ্চা কিভাবে হয়। মায়ের মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করে এসেছে কবির। কি দরকার ছিলো আরেকটা বাচ্চা নেবার! তা না হলে আজ ওর মা বেঁচে থাকতো। ১ বছর পর যখন কবিরের বাবা ওর ছোট খালাকে বিয়ে করে নিয়ে আসলো তখন থেকেই কবির প্রচন্ড ঘৃনা করে এসেছে বাবাকে। ১ বছরও অপেক্ষা করতে পারলো না। আরো বাচ্চা বানানোর মেশিন নিয়ে এসছে!! এই ছিল কবিরের রাগ আর আক্ষেপ। খালামনিকে যেন ছোট মা ডাকে সেটা সবাই শিখিয়ে দিলো। তাও কবির তার বাবা আর উনার নতুন বউকে কিছুই ডাকেনা। এই না ডাকা বা সম্মধন না করার ব্যাপারটা কবিরের বাবা প্রথম দিকে মেনে নিলেও পরে আর মানতে পারলেন না। ওকে গালাগালি, বকা-ঝকা, এবং মেরেও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিছুতেই কবির মেনে নেয়নি বাবার নতুন বিয়ে। ওর পরিবার বলতে শুধু মাত্র ওর ৮ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছোট বোন "লাবনী"। আর কাউকে আপন মনে করেনা। দাদী আর নানীকে আরো বিষ লাগে কারন উনারাই কবিরের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের মূল ঘটক। বয়স বাড়তে বাড়তে সবার সাথে এত বেশি দূরত্ব হল যে কবির চাইতো বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। আত্নীয়-স্বজন সবাইকে অসহ্য লাগতো। অনেকবার বাড়ির বাইরে চলেও গিয়েছিল। কিন্তু বোনের কথা ভেবে বার বার ফিরে এসেছে। ও ছাড়া যে কবিরের আপন কেউ নাই এই দুনিয়া তে। আর ও না দেখলে কে দেখবে এই প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে। ওদেরই এলাকার এক প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষনের খবর শুনে কবির এতটা ভয় পেয়েছিল যে ঠিক করেছে বাড়ীতে থাকবে। এখানকার ডিগ্রি কলেজেই পড়বে। এই পরিবার আর নতুন সংসারকে না চাইতেও আপন করে নিতে হবে। এইসব নিজেকে অনেক বুঝিয়েছিল।
এভাবে দুই বছর যাবার পর একদিন খেয়াল করলো লাবনীর সাথে খালামনির অনেক ভাব। লাবনীর মাঝে মাঝে এত রাগ উঠে। ও কিছুই বুঝাতে পারেনা। কারো কথা শুনে না। ওর এইসব কাজ বাবার ভাষায় পাগলামী হলেও কবির জানে মেয়েটা কোন কারনে খুব কষ্ট পেয়েছে। নাহলে এমন করেনা লাবনী। এরকম করলে কবির ছাড়া কেউ লাবনীকে শান্ত করতে পারে না। অবাক হল যেদিন খালামনি লাবনীকে শান্ত করলো। কবির আগে খেয়াল করেনি কিন্তু লাবনীর সাথে খালামনির খুব সুন্দর স্বাভাবিক একটা সম্পর্ক। কত সুন্দর করে লাবনীর চুল আঁছড়ে দিচ্ছে আবার হাসছেও! কলেজ থেকে ফিরে এই দৃশ্য দেখে কবিরের মন থেকে অনেক বড় পাহাড় নেমে গেল। নাহ! যতটা খারাপ ভেবেছিল খালামনি সেরকম খারাপ না। বোনের সংসারকে সুন্দর আপন করে নিয়েছেন। নিজের কোন বাচ্চা নেন নি। এরপর থেকে একবছরে "খালামনি" থেকে "ছোট মা" হয়েছেন উনি। কিন্তু বাবার সাথে কবিরের সম্পর্ক আগের মতই তেতো রয়ে গেছে। এজন্য টাকা পয়সা থেকে শুরু করে ঢাকায় প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়া সব সিদ্ধান্তে "ছোটমা" সাপোর্ট দিয়ে গেছেন। কবিরের হয়ে ওর বাবাকে বুঝিয়েছেন উনি। আর সবচেয়ে বড় কথা লাবনীকে মমতায় বড় করছেন। এই এক কারনে কবির এই জঘন্য এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে যাবার মত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল।
ছোট্মার কল ধরেই আগে লাবনীর কথা জিজ্ঞাসা করলো। বাবার কোন একটা ইটভাটাতে নাকি শ্রমিকের দুইদলের মাঝে মারপিট হয়েছে। সেটা মিট্মাট করতে গিয়ে নাকি বাবাও আহত হয়েছেন। কবির জানে ছোট্মা এগুলা কেন বলেন। কবির যেন বাবাকে কল দিয়ে কথা বলে। বাবার সাথে সম্পর্কটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা। এগুলো শুনতে ভালো লাগেনা কবিরের। কেন ওর সাথেই এমন হয়? সুন্দর স্বভাবিক সম্পর্কগুলো কেন এভাবে বিগড়ে যায়? এগুলা ভাবতে ভাবতে শামীমা ম্যাডামের কথা মনে আসলো। এদিকে ছোট্মা কথা বলেই যাচ্ছেন। সেদিকে কবিরের মনযোগ নেই। ভাবছে ম্যাডামের কথা।
প্রথম যখন শামীমা ম্যাডামের বাচ্চাদের পড়ানোর প্রস্তাবটা পায় কবির সাথে সাথে মানা করে দিয়েছিল। ইংলিশ মিডিয়ামে বাচ্চা পড়ানোর অভিজ্ঞতা নেই ওর। তার উপর সে ফার্মাসী
এর স্টুডেন্ট। ইঞ্জিনিয়ারিং এর হলে একটা কথা ছিলো। কিন্তু টিউশনির টাকার অংক শুনে দ্বিতীয়বার ভাবলো। মাস শেষে খরচের টাকার জন্য বাবাকে কল দিতে হবেনা ভাবতেই রাজী হয়ে গেল। প্রথমদিন অনেক ভয় আর ইতস্ততা নিয়ে গেল। ম্যাডাম ঘরের মধ্যেই হিজাব করা। কবির আসবে দেখে মনে হয়। উজ্জ্বল শ্যামলা মায়া ভরা মুখ। উনার দিকে তাকালে প্রথমে যা নজরে আসে তা হল এক জোড়া সবুজ চোখ। হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মত!
আর চোখে মনে হয় একটু পানি জমে আছে। ঠিক যেমন কান্না আসার আগে হয় সেরকম। এই ভাসা ভাসা সবুজ চোখের কারনে মনে হয় এই অদ্ভুত মায়া। যদিও এই মায়ার আসল কারন কবির আরো অনেক পরে বুঝতে পেরেছিল। এখনো স্পষ্ট মনে আছে উনার হাতে এলোমেলোভাবে পেঁছানো মাল্টিপ্লাগ সমেত সেদিন দরজা খুলেই বলেছিলেন,
"তুমিই “কাবিইইর” রাইট?",
"আমার ঘরের কাজের মেয়েগুলো কাজ না থাকলেও এত বিজি যে আমাকেই দরজা খুলতে হয়!"।
"সরি তুমি করে বলে ফেললাম কিছু মনে কোরোনা"।
কবির কোন রকমে বলল, "জ্বি, কোন সমস্যা নাই"।
উনি খুব মিস্টি করে হেসে ভেতরে আসতে বললেন।
উনার মুখে ওর কবির নামটা স্টাইল করে "কাবিইইর" ডাকা শুনে খুব ভাল লাগলো। এই প্রাইভেট
ভার্সিটিতে যখন ভর্তি হয়েছে তখন থেকে নিজের নামটা আদিকালের নাম বলে মনে হচ্ছিল। সবার কি সুন্দর সুন্দর নাম! আর তার নাম কিনা কবির। আংকেল টাইপ নাম রেখেছে ওর বাপ। এজন্য কবিরের আরো রাগ লাগে বাপের উপর! নামটাও রেখেছে নিজের মত জঘন্য।
প্রথমদিন অনেক ভয় নিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজীতে কথা বলল শামীমা
ম্যাডামের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলেটার সাথে। নাম আয়ান। অনেক ফাঁকিবাজ এই ছেলে।
বাগে আনা দায়। অনেক সময় আর কৌশল করে পড়াতে হয়। কিন্তু মেয়েটা খুব শান্ত আর পড়ুয়া।
নাম অবনী। বেশি একটা সময় না দিলেও হয়। ছেলেটা রাজ্যর প্রশ্ন করে তবে সেটা পড়ালেখা
নিয়ে না। নতুন গেজেট আর ফুটবল নিয়ে। তবে অবনী পড়া ছাড়া কিছু নিয়ে আগ্রহী না। ওদের
বই আর সিলেবাস দেখতে দেখতে ৩০ মিনিটও হয়নি ম্যাডাম নাস্তা নিয়ে হাজির। তিন রকমের
ঝাল নাস্তা নিয়ে আসলেন। কবির জীবনে এই প্রথম চিজ খেলো। এর আগে অনেক ইংরেজী ছবিতে
চিজ এর নাম শুনেছে কিন্তু আজ খেলো। ঢাকায় আসার পর এই প্রথম এত ভালো ভালো খাবার
খেলো কবির। এর এক ঘন্টা পর আবার নাস্তা নিয়ে আসলেন। এবার মিস্টি জাতীয় খাবার। আগের
খাবার গুলো কেমন লেগেছে সেটা জিজ্ঞাসা করলেন।
কবির হড়বড় করে বলেছিল “অসাধারন…এত ভালো চিজ নুডলস আমি আগে খাই নাই!” ম্যাডাম মিষ্টি করে হাসলেন। কিন্তু আয়ান জোরে হেসে উঠে বলল,
“ভাইয়া এটা তো চিজি পাস্তা… চিজ নুডুলস না!”
কবির লজ্জা পেয়ে গেল। হাইফাই খাবারের হাইফাই নাম। কবিরের লজ্জা পাওয়া বুঝতে পেরে
শামীমা ম্যাডাম বলেছিলেন,
“আরেহ সব একই জিনিস। একজন একরকম নামে ডাকে।“ উনার এই কথা শুনে কবির স্বাভাবিক হল।
কবির মিষ্টি খেতে পছন্দ করেনা কিন্তু ম্যাডাম সামনে দাড়িয়ে আছেন। ওর বাড়ি আর বাবা-মা
নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। ম্যাডাম কি মনে করবে ভেবে সৌজন্যতা করে ক্ষীরের
বাটিটা থেকে এক চামচ খেলো। স্বাভাবিক মুখ করে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করল তবুও মুখ
এমন করে ফেলল যে শামীমা ম্যাডাম বুঝে ফেললেন খাবারটা কবিরের ভালো লাগেনি। বললেন,
“আমি মিষ্টি খাবার এত ভালো বানাতে পারিনা। খুব বেশি খারাপ হয়েছে? রেখে দাও। সমস্যা
নাই”।
আসলে ক্ষীর ঠিকই আছে তবে কবিরের মিষ্টি জিনিস একদম ভালো লাগে না। গোলাপ জলের গন্ধ
একদম সহ্য হয়না।
ম্যাডামের জন্য খারাপ লাগলো কবিরের। বেচারী এত কষ্ট করে বানিয়েছেন কিন্তু দোষ
নিজের ঘাড়েই নিলেন। সেদিন মেসে ফেরার সময় নিজেকে আচ্ছা মত গালি দিয়েছিল কবির। আর
প্রতিজ্ঞা করেছিল এরপর থেকে নাস্তা খেয়ে খুব সুন্দর করে খাবার আর রান্নার প্রশংসা
করবে।
……
ছোট মা’র সাথে কথা বলে ভেবেছিল আনিকার এসাইনমেন্টটা করা শুরু করবে।
কিন্তু উনি এত এত কথা বলছেন আর কবির কানের পাশে মোবাইলটা রেখে চুপচাপ শুয়ে শুয়ে
উনার কথার জবাবে হ্যা-হুম করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ল।
আনিকা মেয়েটাকে ভালো লাগে কবিরের। ভালোলাগাটা ঠিক প্রেম-প্রেম কিনা
সেটা কবির ঠিক বুঝতে পারেনা। অন্যদের চেয়ে আলাদা বলেই ভালো লাগে। মেয়েটা অগোছালো
টাইপ। একই জামা বার বার পড়ে। সামান্য কোঁকড়ানো চুল। কোনরকম আঁচড়ে আসে। চোখের নিচে
গাঢ় করে কাজল দেয়। আর মাঝে মাঝে কপালে টিপ। মেক-আপ বলতে এতটুকু। প্রাইভেট
ভার্সিটির মেয়েগুলো খুব সাজুগুজু করে আসে ক্লাসে। কথা বলার সময় সামনের জন কি বলল
তারচেয়ে নিজের চুল আর লুক ঠিক করতেই ব্যাস্ত থাকে। ছোট শহর থেকে আসার কারনে শুরুতে
ওদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতো। পরে বুঝতে পেরেছিল বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে সময়
দেয়া মানুষগুলো কতটুকু আত্নকেন্দ্রিক। আনিকা অন্য সবার চেয়ে আলাদা। প্রথম দিকে সবার
সাথেই কথা বলতে ইতস্তত বোধ করত বিশেষ করে মেয়েদের সাথে। তবে কেন জানি আনিকার সাথে
খুব সহজে কথা শুরু হয়ে গেলো। মনে হয় আনিকার সাধারন বেশভুষা আর সরল আচরন কবিরকে
আনিকার দিকে টেনে নিয়েছিল। কথায় কথায় ওদের বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল। আনিকা বোনের সাথেই
থাকে। মাঝে মাঝে এটা সেটা রান্না করে আনে কবিরের জন্য। এজন্য কবির নিজে থেকেই
আনিকার বিভিন্ন এসাইনমেন্ট আর ল্যাব রিপোর্ট করে দিতে লাগলো। আনিকার সাথে প্রায়শ
ক্যাম্পাসের বাইরে ঘুরতে যেত। আর ওর কথায় ভাইবার এপটা ইন্সটল করেছে যেন সব সময়
যোগাযোগ রাখতে পারে। আনিকার একটা পাগলামী আছে। ও নতুন নতুন খাবার খাওয়ার বাতিক
আছে। যেই শুনে একটা রেস্টুর্যান্ট এ নতুন কোন ডিশ এসছে অমনি আনিকা কেও সেটা খেয়ে
দেখতে হবে। ওর ইচ্ছা ইউটিউবে নিজের একটা ফূড রিভিউ চ্যানেল খোলা। একবার এক নতুন
রেস্টুর্যান্ট এ বার্গার খেতে গেলো দুইজন। বার্গারে তেলাপোকার বাচ্চা পেল কবির।
বমি করতে করতে শেষ। পরে সেদিন যখন পড়াতে গেল একটু দেরি করে তখন ম্যাডাম দেরির কারন
জিজ্ঞাসা করায় বলল বার্গারে তেলাপোকা পাবার ঘটনা। সেদিন ম্যাডাম বাসায় নিজের হাতে
বার্গার বানিয়ে আনলেন। অসাধারন হয়েছিল। কবির বিশ্বাস করতে পারেনি বাসায় কেউ
বার্গার বানাতে পারে তাও এমন ভালো! আর ম্যাডামের এই কাজ কবিরের মনটা ছুঁয়ে গেল।
ঘুম ভাঙল খুব
সকালে। গতকাল রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। ছোট মার কথা শুনতে শুনতে কবে ঘুমিয়ে
পড়েছে টের পায়নি। পানিও কম খেয়েছে। ফলাফল গ্যাস আর বুকে ব্যাথা। আগে কখনো এই
সমস্যা ছিলোনা। ঢাকা আসার পর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। ডাক্তার দেখাতে হবে
ভাবতে ভাবতে পানি খেলো। মোবাইলে কাল থেকে আসা সব নটিফিকেশন এসে জমা হয়ে আছে।
সেখানে আছে আনিকা আর শামীমা ম্যাডামের মেসেজ। ঘুমিয়ে পড়ার কারনে মেসেজের জবাব দিতে
পারেনি। নিজের বুকের ব্যাথা এর কথা ভাবতেই শামীমা ম্যাডামের কথা মনে পড়লো। উনারো
হার্ট এর সমস্যা আছে। জন্মের পর থেকেই নাকি। একবার কবিরকে বলেছিল। সেটা ভাবতে
ভাবতে উনার মেসেজ ওপেন করলো। মেসেজ ওপেন করে দেখে বিরাট বড় মেসেজ। সারসংক্ষেপ হল,
উনার স্বামী শফিক সাহেবের হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। সারাদিন নতুন ব্যাবসায় সময় দিতে
দিতে শরীরের দিকে খেয়াল করেননি। ফল সরূপ এই সব বড় রোগ। কিন্তু শামীমা ম্যাডাম
এইসবের জন্য নিজেকে দায়ী করছেন। উনার মনে হয় এটা উনার পাপের শাস্তি। নিজেকে দোষী
ভাবছেন। কিন্তু উনি নিরুপায়।
পাপ! কবির জানেনা যা হয়েছে সেটা কি ভুল না পাপ। সকাল সকাল এসব ভাবতে চায় না। পেট
খুব ব্যাথা করে উঠলে টয়লেটে গেলো। আজকাল টয়লেটে গেলেই রাজ্যর সব দার্শনিক কথা
বার্তা মনে আসে। তাই ঘন্টা ঘন্টা বসে থাকে কিন্তু সময় কিভাবে যায় টের পায়না। এজন্য
রুমমেট অনেক ব্যাজার থাকে কবিরের উপর। ভালোবাসার অনুভূতি ব্যাপারটা জানি কেমন
অদ্ভুত। একজন মানুষ যতই শক্তিশালী হোকনা কেন, ভালোবাসার মানুষের কাছে সে দূর্বল।
ভালোবাসার অনুভূতির জন্ম কখন আর কিভাবে এটা কেউ বলতে পারে না। মনের অগোচরে এসে
বাসা বেঁধে ফেলে। ঠিক যেন ক্যান্সারের মত। যখন খবর হয় তখন আর কিছুই করার থাকেনা। ম্যাডামের
সাথে কবিরের তাই হল। ভাঙা পরিবারের ছেলে। অনেক দিনের পুষে রাখা রাগ আর অভিমান
বাবার সাথে। মা ছিলো সংসার আর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি বোনকে নিয়ে ব্যাস্ত। বাবা ব্যাবসা
নিয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর এলোমেলো সবকিছু। আত্নীয়-স্বজনেরা কেউ কবিরের অভিমান
বুঝেনি। উলটো কবিরের ব্যবহারকে উনারা দোষ হিসেবে দেখেছেন কিন্তু কেন এমন করছে সেটা
বুঝার দরকার মনে করেনি কেউ। ঢাকায় এসে ভেবেছিল দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি
পাবে। কিছুটা হলেও পেয়েছে। কিন্তু মনের অস্থিরতা কমেনি। একটা শুন্যতা বার বার পেয়ে
বসতো। ক্লাস আর বাসা। বাসা আর ক্লাস।
মাঝে মাঝে আনিকা সহ বাইরে যায়। কিন্তু সেটা অনেক কম। কারন সব বার আনিকা খাবারের বিল দিলে খারাপ দেখা যায়। আর বড় রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার মত টাকা কবিরের নেই। তাই আনিকার সাথে বাইরে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলো।
কবিরের শুন্যতা যেন এই টিউশনীই মিটিয়েছিল। আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে শামীমা ম্যাডাম। উনার কবিরের ছোট ছোট বিষয়ে মনযোগ দেয়া,পছন্দ-অপছন্দের খেয়াল রাখা, খুটিয়ে খুটিয়ে লাবনীর বিষয়ে খোঁজ নেয়া, লাবনীর জন্য গিফট কেনা, আরো কত কি! কবির কখনো বুঝে উঠতে পারেনি কেন শামীমা ম্যাডাম ওকে এতটা যত্ন আত্নী করেন। তবে বুঝতে পারতো উনার ব্যাবহারে। উনি কবিরের সাথে গল্প করতে ভালোবাসতেন। টিউশনীর কিছু মাস পরেই কবির খেয়াল করতো উনি প্রায় সময় কারন অকারনে এসে কবিরের সাথে কথা বলতেন। অনেক সময় নিজের ছোটবেলার কথা, মা এর সাথে রাগ করে পুরাদিন ঘরের এক কোনে লুকিয়ে থাকা যেন সবাই খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় পড়ে যায় সেই কাহিনী, কখনো ছোটবেলার অনেক মজার কথা বলে হাসতেন আবার কখনো সাংসারিক জীবনের পাওয়া না পাওয়ার কথা বলে চোখের জ্বল ফেলতেন বিশেষ করে স্বামীর সময় না দেয়ার আর না ভালোবাসার কথা। ওই সুন্দর চোখ জোড়া হাসি হোক বা কান্না, কখনো মায়াহীন হতোনা। সৌন্দর্য হারাতোনা। প্রায় বলতেন “আমি বেশি দিন বাচবো না”। কেন জানি এই কথা কবিরকে খুব কষ্ট দিত। কবির এই কথার জবাবে বিভিন্ন রকম যুক্তি আর কথা দিয়ে, কখন কোরআন-হাদীস দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করত যেন না বলে। সময়ের সাথে সাথে উনার এই কথার জবাবে কবির রাগ করত। একবারতো হুমকি দিয়ে বলেইছিল “আপনি এই কথা আবার যদি বলেন তবে আমি আর পড়াতে আসবো না”! সেদিন উনি অনেক্ষন কবিরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কি ভাবছিলেন কে জানে! কবির পরে নিজেও অবাক হয়েছিল নিজের এমন ব্যাবহারে।
সেদিন প্রথম বলেছিলেন নিজের হার্ট এর অসুখের কথা। ডেক্সট্রকার্ডিয়া। সোজা কথায় উনার হার্ট আর সবার মত বুকের বাম দিকে না হয়ে ডান দিকে। এটা জন্মগত ভাবেই। শুধু তাই নয় হার্টের বিভিন্ন সহযোগী মাসলগুলো ও উল্টো। এই কারনে ছোটবেলা থেকেই অল্পতে সর্দি, মাথা ব্যাথা, সাইনাসের সমস্যা, বার বার নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বয়সের সাথে সাথে এগুলো বাড়ছে। অন্যর জন্য এত এত মায়া করা মানুষটাকে দেখে কে বলবে এরকম একটা হার্ট নিয়ে বেঁচে আছেন। সেদিন এসব শুনে কবির অবাক হয়েছিল। ভাবতেই পারেনি এরকম কোন রোগ থাকতে পারে। অনেক কঠিন হৃদয়ের মানুষ দেখেছে আর ভবেছে এদের বুঝি কোনো হার্ট নেই। বা থাকলেও ডিফেক্টেড। কিন্তু শামীমা ম্যাডামের এরকম হবে সেটা কল্পনাতীত।
টয়লেটে আবারো এসব ভাবতে ভাবতে কখন সময় চলে গিয়েছে টের পায়নি। শুধু
গ্যাস এর ঔষধ খেয়ে তাড়াহুড়ো করে রেডী হয়ে ক্লাসের জন্য বের হয়ে গেল। যেতে যেতে
আনিকার মেসেজটা পড়ল। এসাইন্মেন্টটা হয়েছে কিনা তাই জিজ্ঞাসা করেছে। না করেনি। মেয়েটাকে
অনেক দিন হল ঝুলিয়ে রেখেছে। নাহ আজই করবে। ম্যাডামের এসব ভাবতে ভাবতে আসলে নিজের
পড়ালেখা আর মানসিক শান্তি সবকিছু নষ্ট হচ্ছে। ক্লাসে ঢূকেই আনিকার দিকে তাকিয়ে
ইশারায় সরি বলল। আজকের মাঝেই করে দিবে প্রমিস করলো। মেয়েটা কপট রাগ দেখিয়ে চোখ
ফিরিয়ে নিল। তারপরও ওর পাশের চেয়ারে গিয়ে বসলো। সকাল সকাল ক্লাসের বোরিং সব পড়া।
তাও নিজেকে জোর করেই মনোযোগ দেয়ালো স্যার এর লেকচারে। কারন এক, ম্যাডামের কথা মনে
করতে চায় না। দুই, এই পড়াগুলো এসাইন্মেন্ট করার সময় কাজে লাগবে। ক্লাস নিচ্ছেন হাবিব
স্যার। উনার ছোট ছোট চোখ দিয়ে একবার ক্লাসের দিকে আরেকবার প্রেসেন্টেশন স্লাইডের
দিকে তাকাচ্ছেন আর “এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস” কেন ব্যাবহার করা হয়। এগুলোর
উপাদান, কাজ আর ভয়ানক সাইড এফেক্ট নিয়ে বলছেন। মাত্রাতিক্ত বা ভুল ব্যাবহারে যে কি
পরিমান ক্ষতি হতে পারে সেটা বলতে গিয়ে চোখ আরো ছোট ছোট হয়ে এল উনার। কয়েকজন উনার
চোখের এই পরিবর্তন দেখে মুচকি হাসলো।
ক্লাস শেষ
করে লাইব্রেরীতে গিয়ে বসল এসাইনমেন্ট করতে। মনে বসছেনা একদম। বার বার মনে হচ্ছে
শামীমা ম্যাডামের কথা। উনার স্বামীর অসুস্থতা নিয়ে নিজেকে দোষারোপ করছেন। অনুশোচনায়
পুড়ছেন। সাথে সাথে নিশ্চয়ই স্বামীর জন্যও দুশ্চিন্তা করছেন। ইচ্ছে করছে কথা বলে
উনাকে শান্ত করতে। ভাবছে ওর কিছু করা উচিত। কিন্তু কি করবে কবির? নিজের উপর খুব
রাগ হলো। কেন সে এত এত ভাবছে? শামীমা ম্যাডাম ছোট বাচ্চা নন। উল্টো কবির বয়সে অনেক
ছোট। ম্যাডাম নিশ্চই নিজেকে শামলাতে পারবেন। কবিরের দরকার নাই। কিন্তু সেই মায়াভরা
সবুজ চোখের কথা মনে আসতেই কবির বার বার মনযোগ হারাচ্ছে। মনের মাঝে এই দোলাচলে
নিশ্চল হয়ে ল্যাপটপের দিকে শূন্য দৃশটিতে তাকিয়ে আছে। এর মাঝে আনিকা এলো। এসেই
বলল,
“জানতাম তোমাকে এখানেই পাবো।“
কবির ওর দিকে আগের শূন্য দৃষ্টি নিয়েই তাকিয়ে রইল।
আনিকা আবার বলল, “কিরে আমাকে চিনতে পারছো না? কি হয়েছে তোমার?”
কবির কোনরকমে বলল, “কিছু না”, তোমার এসাইনমেন্টটাই করছিলাম, কাল পাবে”।
আনিকা আঁচ করলো কবিরের মন ভালো নেই। বলল, “আচ্ছা সমস্যা নাই। তুমি তোমার হিসেবেই
করো“।
কবির একটু মেকি হাসলো।
কবিরের মুড ভালো করার জন্য আবার বলল, “ফাইনালি ঢাকাতে ভালো কোন সী-ফুড রেস্টুরেন্ট
হয়েছে। আজকে বিকেলে চল যাই“।
কবির সরাসরি মানা করে দিল। সী ফুডের অনেক দাম।
আনিকা বলল, “আরেহ তুমি না বলেছিলে কখনো কাঁকড়া খাওনি। ওখানে কাঁকড়া নাকি খুব ভালো
করে। তুমি কাঁকড়া আর আমি অক্টোপাস খাবো”, “চল যাই”!
কবির একটু ভাবলো। এমনিতেই অনেকদিন যায়না কোথাও আনিকা সহ। আর সারাক্ষন শামীমা
ম্যাডামের কথা ভাবতে ভাবতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তারউপর উনিও খুব
ইমোশনাল। কি না কি হয়! ওই দিনের সিড়িতে যা হয়েছে ওই রকম কিছুনা হয়ে যায় আবার! এসব
ভেবে আনিকার সাথে বাইরে যেতে রাজি হয়ে গেল।





No comments:
Post a Comment